লেখকঃ
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
জন্ম: ১৮৩৮ সালের ১৭ই এপ্রিল
জন্মস্থান:কলকাতা। আদি পৈতৃক নিবাস- বাংলাদেশের পাবনা জেলা
পেশা: কর্মজীবনের তিনি সরকারি চাকরি, স্কুল শিক্ষকতা এবং পরিশেষে আইন ব্যবসায় নিয়োজিত হন।
⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরে কাব্য রচনায় তিনিই ছিলেন সবচেয়ে খ্যাতিমান।
⇒ স্বদেশপ্রেমের অনুপ্রেরণায় তিনি‘বৃত্রসংহার’ নামক মহাকাব্য রচনা করেন।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: চিন্তাতরঙ্গিনী,বীরবাহু,আশাকানন,ছায়াময়ী ইত্যাদি।।
মৃত্যু: ২৪শে মে, ১৯০৩
জন্ম: ১৮৩৮ সালের ১৭ই এপ্রিল
জন্মস্থান:কলকাতা। আদি পৈতৃক নিবাস- বাংলাদেশের পাবনা জেলা
পেশা: কর্মজীবনের তিনি সরকারি চাকরি, স্কুল শিক্ষকতা এবং পরিশেষে আইন ব্যবসায় নিয়োজিত হন।
⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্তের পরে কাব্য রচনায় তিনিই ছিলেন সবচেয়ে খ্যাতিমান।
⇒ স্বদেশপ্রেমের অনুপ্রেরণায় তিনি‘বৃত্রসংহার’ নামক মহাকাব্য রচনা করেন।
উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: চিন্তাতরঙ্গিনী,বীরবাহু,আশাকানন,ছায়াময়ী ইত্যাদি।।
মৃত্যু: ২৪শে মে, ১৯০৩
বলো না কাতর স্বরে
করুণ কন্ঠে একথা যেন বলা না হয়
বৃথা জন্ম এ সংসারে
জগৎ সংসারে মানব জনম বৃথা
এ জীবন নিশার স্বপন,
এ জীবন (মানব জীবন) রাত্রির স্বপ্নের মতো
দারা পুত্র পরিবার, তুমি কার কে তোমার
ব’লে জীব করো না ক্রন্দন;
কেউ কারো নয়
মানব-জনম সার,
মানব জীবন মহামূল্যবান
এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
মোহময় এ জগতের বাইরের চাকচিক্য দেখে মন যেন মানব জীবন লাভের উদ্দেশ্য ভুলে না যায়
কর যত্ন হবে জয়,
চেষ্টা করলে জয় হবেই
জীবাত্মা অনিত্য নয়,
মানুষের আত্মা অবিনশ্বর
ওহে জীব কর আকিঞ্চন।
ওহে, মানব তোমরা চেষ্টা করো
করো না সুখের আশ পরো না দুখের ফাঁস,
জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,
সুখ ভোগের উদ্দেশ্যে মানব জীবন নয়
সংসারে সংসারী সাজ,
সংসারী হয়ে সংসারের দায়-দায়িত্ব পালন করা উচিত যাতে জগতে নিজের উন্নতি সাধিত হয়
করো নিত্য নিজ কাজ,,
ভবের নিজের
উন্নতি যাতে হয়।
দিন যায় ক্ষণ যায়, সময় কাহারো নয়
বেগে ধায় নাহি রহে স্থির,
সময় চলমান। আপন গতিতে সে ধাবমান
সহায় সম্পদ বল,
সময়ের বিবর্তনে সময় শক্তি
সকলি ঘুচায় কাল,
একদিন শেষ হয়ে যাবে
আয়ু যেন
শৈবালের নীর।
শৈবালের নীরের মত ক্ষণস্থায়ী
সংসারে-সমরাঙ্গনে
জগতে সংসার একটা যুদ্ধক্ষেত্র
যুদ্ধ কর দৃঢ়পণে,
ভয়ে ভীত হইও না মানব;
কর যুদ্ধ বীর্যবান,
সাহসী যোদ্ধার মতো যুদ্ধ করতে হবে
যায় যাবে যাক প্রাণ
নিজের জীবন বিপন্ন হলেও
মহিমাই জগতে দুর্লভ।
মনোহর মূর্তি হেরে,,
সৌন্দর্যের মূর্তি অবলোকন করে
ওহে জীব অন্ধকারে,
অন্ধকারে অবস্থান করে
ভবিষ্যতে ক’রো না নির্ভর;
অতীত সুখের দিন,
পুনঃ আর ডেকে এনে,পুনরায় স্বরণ করে
চিন্তা ক’রে হইও না কাতর।
সেই সুখের চিন্তায় কাতর হয়ো না
মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে ক’রে গমন,
হয়েছেন
প্রাতঃস্মরণীয়,
সকলের শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র হয়েছেন
সেই পথ লক্ষ্য ক’রে
স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধ’রে
নিজের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে
আমরাও হব বরণীয়
সমর
যুদ্ধময়
সাগর- তীরে,
পদাঙ্ক
পায়ের ছাপ
অঙ্কিত ক’রে
আমরাও হব হে অমর;
সেই চিহ্ন লক্ষ ক’রে,
অন্য কোনো জন পরে,
পরবর্তীতে অন্য মানুষ
যশোদ্বারে আসিবে সত্বর।
খ্যাতি অর্জনে সত্বর এগিয়ে আসবে
ক’রো না মানবগণ,
বৃথা ক্ষয় এ জীবন,
এই জীবনের বৃথা অপচয়
সংসার-সমরাঙ্গন মাঝে;
সংসাররুপ এই যুদ্বের ময়দানে
সঙ্কল্প করেছ যাহা,
যা কিছু প্রতিজ্ঞা করেছো
সাধন করহ তাহা,
তা পূর্ণ করার জন্য
রত হয়ে নিজ নিজ কাজে।
নিজ নিজ কর্ম পালন করতে হবে
আমাদের জীবন কেবল নিছক স্বপ্ন নয়। কাজেই এ পৃথিবীতে স্বপ্ন ও মায়ার জগৎ বলে দেওয়া যায় না। স্ত্রী-পুত্র- কন্যা এবং পরিজনবর্গ কেউ কারও নয়, একথাও ঠিক নয়। মানব-জন্ম অত্যন্ত মূল্যবান। মিথ্যা সুখের কল্পনা করে দুঃখ বাড়িয়ে লাভ নেই, তা আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যও নয়। সংসারে বাস করতে হলে সংসারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কেননা বৈরাগ্যে কোন মুক্তি নেই। আমাদের জীবন যেন শৈবালের শিশর বিন্দুর মতো ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং মানুষকে এ পৃথিবীতে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। মহাজ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করে আমাদেরও বরণীয় হতে হবে। কেননা জীবন তো একবারই। ‘জীবন সঙ্গীত’ কবিতাটি কবি ‘Henry Wordworth Longfellow এর A Paslm of life’ ইংরেজি কবিতার ভাবানুবাদ।


No comments:
Give us your opinion about this content.